প্রতিষ্ঠা: 1999

ফোন: +8801819506841

ঠিকানা: হিছাছরা, ছাগলনাইয়া, ফেনী

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস


একটি আকাঙ্খা! একটি বাস্তবতা!

 ১৯৯৭ সাল। তখন ফাযিল জামায়াতে পড়ি। প্রতিষ্ঠান ছাগলনাইয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা। (বর্তমানে কামিল মাদ্রাসা)। মাদ্রাসায় ছাত্রাবাস ছিলনা। পড়া লিখার সুবিধার্থে থাকতাম ছাগলনাইয়া উপজেলা জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি রুমে। সাথে আরো দুইজন। আমাদের পাশেই ছিল শিশুদের কোরআন শিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান (বর্তমানে নেই) ওস্তাদ ছিলেন মাওঃ শরীয়ত উল্লাহ। শিশুদের পড়াশুনা আর এক্টিভেটিস দেখতাম প্রতিদিন, বেশ আকর্ষণীয়, সুশৃঙ্খল এবং গোছানো। খুব আকৃষ্ট হই। কোরআন শিক্ষার অভিনব পদ্ধতি মনের মধ্যে একটা আকাঙ্খা জাগে। এলাকায় শিশুদের জন্য এমন একাট প্রতিষ্ঠান থাকলে খুব ভাল হয়। ছন্দ আর তালে শিশুরা শিখত কুরআন মাজীদ, শিখতো ইসলামের মৌলিক বিষয়সমুহ এ নিয়ে অনেক দিন ভাবি। কিন্তু কি করব? নিজেই ছাত্র, বাবার পকেটই পড়ালিখার একমাত্র ভরসা।

একদিন রাতের খাবার খেতে বসে শ্রদ্ধেয় আব্বাজান মজিবুল হক পাটোয়ারী (রহঃ) {২০০৩ সালে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের আলা মাকাম দান করুন} এর সাথে বিষয়টির গুরুত্ব ও বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করি। তিনি আলেম ছিলেননা, তবে মসজিদ, মাদরাসা, আলেম-ওলামাদের সাথে যথেষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন, শ্রদ্ধা করতেন, ভালবাসতেন। আমাকে বললেন, এ ধরণের প্রতিষ্ঠান করতে করণীয় কী তার একটা পরিকল্পনা করতে। উনার কথায় বেশ উফুল্ল হই। কিন্তু পরক্ষণেই চিন্তার মেঘ বেস্টন করে আমাকে। কারণ বাবার আয় এমন ছিলনা যে, একটি প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবেন। আমার চেহারায় চিন্তার চাপ দেখে বলেছিলেন "আমরা শুরু করব, আল্লাহ কবুল করলে তিনিই তাঁর ব্যবস্থা করবেন"। উনার কথায় বেশ সাহস পাই। আল্লাহর উপর ভরসা করে  পরের দিনই ঐ মুহতারাম শিক্ষকের সাথে আলোচনা করে করণীয় বিষয়গুলি ঠিক করতে থাকি।

এভাবেই চলে যায় প্রায় বছর খানেক। একদিন বাবা প্রতিষ্ঠানের জন্য যায়গা দেখতে বলেন। 
এলাকার শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি যেহেতু মাথায় ছিল, তাই আমি দুটি জায়গার প্রস্তাব করলাম। একটি হিছাছরা স্কুল সংলগ্ন, অন্যটি দানামিয়া মজুঃ বাড়ির মসজিদ সংলগ্ন। বাবা জমি ওয়ালাদের সাথে বিভিন্ন ভাবে আলোচনা করেন। আমিও করি, কিন্তু হতাশ হই

আল্লাহর মেহেরবানীতে এরই মধ্যে আমাদের বাড়ীর দরজায় (হিছাছরা চান মিয়া ভূঞা বাড়ি) প্রতিষ্ঠিত প্রাচীনতম ফোরকানিয়া মক্তবের’ পাশে পুকুরের কিছু অংশ বিক্রি হচ্ছিল। বাবা অনেক চিন্তা করে ঐ জমিটুকু কিনে ‘কোরআন শিক্ষার’ মাদ্রাসার জন্য দান করেন। এভাবেই আকাঙ্খা, স্বপ্ন আর কল্পনার ‘কোরআন শিক্ষার’ মাদরাসা ১৯৯৯ইং সালে বাস্তবতা লাভ করে আর নাম দেই আটটি জান্নাতের একটির নামে; “দারুসসালাম মাদ্রাসা"। দীর্ঘ বিশ বছর পর যখন ঐ স্মৃতি রোমন্থন হচ্ছিল,  আল্লাহর করুনার শুকরিয়ায় মনের অজান্তেই চোখের কোণা ভারী হয়ে গিয়েছিল। 

আল্লাহ তা'য়ালা এই বাগানকে এলাকার মানুষের হেদায়াতের জন্য কবুল করুন। আমীন। 

 

 

This is a product of Biddaloy.com